ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিংয়ে নীতিগত অগ্রাধিকার না থাকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ
বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ছয় হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ৭০ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করেছে। অথচ বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের নিচে।
বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত জমি নেই- নীতিনির্ধারকদের এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (শ্রেডা) সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের শহর ও মফস্বলের বাড়িঘর এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করেই সাত থেকে আট হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতে পারে।
এ জন্য প্রয়োজন সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি ক্রয়ে ভর্তুকি, আমদানি শুল্ক হ্রাস এবং কার্যকর নেট মিটারিং ব্যবস্থা। ভারতের ‘পিএম রুফটপ সোলার যোজনা’ কর্মসূচিতে সাধারণ নাগরিকদের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগও রয়েছে। বাংলাদেশে এমন কার্যকর প্রণোদনা চালু করা গেলে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
শুধু ছাদ নয়, চা বাগানের অনুৎপাদনশীল জমি, নদীর চর, উপকূলীয় অঞ্চল ও অন্যান্য অব্যবহৃত ভূমিতেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানেও দ্রুত বিনিয়োগ আকর্ষণ জরুরি।
গ্যাস সংকট ও আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার চাপে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত যখন বিপর্যস্ত, তখন সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কার্যকর বিকল্প। কিন্তু নীতিগত জড়তা, ভর্তুকির ঘাটতি ও নেট মিটারিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতায় সেই সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
ভারত-পাকিস্তান যখন সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে জ্বালানি ব্যয় কমানোর পথে এগোচ্ছে, তখন বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে? সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকি ও নেট মিটারিং সম্প্রসারণে অবিলম্বে কার্যকর সরকারি সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠছে।


