প্রায় এক মাস ধরে চলা আলোচিত অনশন কর্মসূচির ইতি টানলেন ভারতের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস পাওয়ার পর শুক্রবার গভীর রাতে তিনি ২৭ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেন।
গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ (জে পি) নড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙেন ওয়াংচুক। এ সময় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি জৈন আংমোও উপস্থিত ছিলেন। অনশন প্রত্যাহারের পর উপস্থিত ব্যক্তিরা তাকে উত্তরীয় পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, রাত ১১টা ৫৩ মিনিটে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কেবল একটি অপরাধ নয়, এটি লাখো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের ওপর নির্মম আঘাত। তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত আড়াই মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে একাধিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ২২ লাখ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে সংসদের চলতি অধিবেশনেই এ-সংক্রান্ত কঠোর আইন পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি কঠোরভাবে দমন করা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতির পরই হাসপাতালের শয্যায় বসে আনুষ্ঠানিকভাবে অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন সোনম ওয়াংচুক।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সুস্থ হয়ে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আবারও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।


