বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আলবিসেলেস্তেরা শেষ দিকে দুর্দান্ত লড়াই করে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে। আর এই নাটকীয় জয়ের নেপথ্যের সবচেয়ে বড় কারিগর ছিলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ সেমিফাইনালে গোল করতে না পারলেও আর্জেন্টিনার দুটি গোলই এসেছে মেসির তৈরি করা সুযোগ থেকে। ৮৪তম মিনিটে শর্ট কর্নার থেকে এনজো ফার্নান্দেজের সমতাসূচক গোলের পেছনে ছিল মেসির বুদ্ধিদীপ্ত পাস। এরপর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রসে হেড করে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। মেসির জোড়া অ্যাসিস্টেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনালের টিকিট।
এই ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বকাপে নিজের মোট অ্যাসিস্ট সংখ্যা ১২-তে উন্নীত করেছেন মেসি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক। এর মধ্যে ১০টি এসেছে নকআউট পর্বে- যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শুধু তাই নয়, টানা ১১টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। ১৯৬৬ সালের পর ফিফার আধুনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টধারীর সংখ্যা যেখানে ৮, সেখানে ১২ অ্যাসিস্ট নিয়ে সবার অনেক ওপরে অবস্থান করছেন মেসি।
দুটি নতুন অ্যাসিস্ট যোগ হওয়ায় চলতি বিশ্বকাপে মেসির অ্যাসিস্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪টি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এটি এনে দিয়েছে বড় সুবিধা। বর্তমানে মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে- দুজনেরই গোল ৮টি করে। তবে গোল সমান হলে প্রথম টাইব্রেকার হিসেবে বিবেচনা করা হয় অ্যাসিস্ট। সেই হিসেবে এমবাপ্পের ৩ অ্যাসিস্টের বিপরীতে মেসির ৪ অ্যাসিস্ট থাকায় দৌড়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এমবাপ্পে খেলবেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে, আর মেসির সামনে রয়েছে বিশ্বকাপের ফাইনাল। আগামী রোববার নিউইয়র্কে শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আরও একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় যোগ করার সুযোগ থাকবে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির।


