বগুড়া সদর উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই নারী বর্তমানে প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী। তবে অপর এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছেন।
২২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ফাঁপোড় ইউনিয়নের ফাঁপোড় পূর্বপাড়া গ্রামে ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন ও শহিদুল ইসলামকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তারা দুজনই ওই গ্রামের বাসিন্দা। এ ছাড়া একই এলাকার মাহবুবুর রহমানকে এই ঘটনার আরেক অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজে পিয়ন হিসেবে কর্মরত বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ভুক্তভোগী নারীর স্বামী একটি মাদক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। সেই সুযোগে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীকে অভিযুক্তরা একাধিকবার ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ধারাবাহিক নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগীর স্বামী। স্ত্রীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে সন্দেহ হলে বিষয়টি জানতে চান তিনি। তখন স্ত্রী তাকে ধর্ষণের বিষয়টি জানান বলে পরিবারের দাবি। পরে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী দুই অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, অভিযুক্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং পলাতক অপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর শারীরিক পরীক্ষা এবং গর্ভধারণের বিষয়টি চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


