পুরান ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর একটি অফিসের পেছনের করিডোর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর বালুচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বন্ধু মাসুম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে শুক্রবার ভোরে লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের নিচতলার অফিসের পেছন থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াসিম রনি। তার কাছ থেকে প্রায় আট মাস আগে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন বন্ধু মাসুম চৌধুরী। ওই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম দাবি করেন, ৮ সেপ্টেম্বর টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিতে রনি তার অফিসে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাসুম রনিকে ঘুষি মারেন। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
মাসুমের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর রনির হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অফিসের পেছনের একটি করিডোরে নিয়ে বালু দিয়ে মরদেহটি চাপা দিয়ে রাখা হয়।
এদিকে রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে তারা লালবাগ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে মাসুমকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। ওই দিন রনি টাকা নিতে মাসুমের অফিসে যান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
মুরাদ আরও জানান, তারা একপর্যায়ে মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তখন মাসুমের স্ত্রী দাবি করেন, রনি বাসায় এসেছিলেন এবং কথা বলে চলে গেছেন। পরে কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, মাসুম তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতিমাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিত তা পরিশোধ করেননি। এ কারণে রনি মূল টাকা ফেরত চাইছিলেন।
তবে মাসুমের স্বজনদের দাবি, তিনি ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং যে ভবন থেকে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় তার কারখানা ছিল। প্রায় আট মাস আগে রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও পরে মূল টাকা পরিশোধ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


