ভারতের বহুল আলোচিত মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের তদন্তে নতুন বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, আন্দোলনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত একটি সমন্বিত প্রচারণার সঙ্গে অন্তত ৪০০টি পাকিস্তান-সংযুক্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য মিলেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব হ্যান্ডেল থেকে ‘অপারেশন সিন্দুর’-সংক্রান্ত নানা পোস্ট, ভিডিও, হ্যাশট্যাগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু ভুয়া তথ্যই নয়, জনমনে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রচার করা হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের।
দিল্লি পুলিশের সাইবার শাখা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলোর ডিজিটাল কার্যক্রম নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় অ্যাকাউন্টগুলোর প্রকৃত উৎস ও পরিচালনাকারীদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকেও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হবে।
পুলিশের মতে, তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো-এই অনলাইন প্রচারণা কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া।
ভারতজুড়ে আলোড়ন তোলা NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এরই মধ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ, আইনি লড়াই এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেখা গেছে। নতুন এই তদন্তের তথ্য সামনে আসায় পুরো ঘটনায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা যুক্ত হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


