দেশের প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। দেশের ঋণ পরিস্থিতি ও ব্যাংকিং খাতের আর্থিক চাপ নিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে এসব তথ্য।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। ঋণের বোঝা নিয়ন্ত্রণে সরকার রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবহার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
অন্যদিকে, গত ৩০ জুনের হিসাব অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে- ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।
সংসদে দেওয়া এই তথ্য বলছে, একদিকে জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে বিপুল অঙ্কের ঋণ খেলাপি হয়ে পড়ছে। ফলে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ঋণ আদায় ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঋণের পরিমাণ নিজে থেকেই অর্থনীতির জন্য সংকটের প্রমাণ নয়; তবে ঋণের বিপরীতে আয়, অর্থের ব্যবহার এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, অপচয় নিয়ন্ত্রণ এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে।


