পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. ফয়সল কবিরের বিরুদ্ধে জাল ভাউচার তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ উত্তোলনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বাস্তবে অনুষ্ঠিত না হওয়া অনুষ্ঠান এবং অন্য বিভাগের অর্থায়নে সম্পন্ন হওয়া আয়োজনের ব্যয় দেখিয়ে একাধিক ভাউচার তৈরি করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল এবং সুলতানা রাজিয়া হলের যৌথ উদ্যোগে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আপ্যায়ন, ফুলেল শুভেচ্ছা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সম্পূর্ণ অর্থ বহন করে দুটি হল কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, একই অনুষ্ঠানের নামে এএনএসভিএম অনুষদের ডিন অফিস থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর জন্য রোল, ডিম সিদ্ধ, ছানা ও খাবারের বক্স বাবদ ২৫ হাজার টাকার একটি ভাউচার প্রস্তুত করা হয়। অথচ হল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এ খাতে অনুষদের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা বা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান বলেন, “নবীনবরণ অনুষ্ঠানটি দুটি হলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমার জানা মতে, এই আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট অনুষদ থেকে কোনো ধরনের আর্থিক বরাদ্দ বা সহায়তা দেওয়া হয়নি।”
একই বছরের ১২ জানুয়ারি তারিখে ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য রোল, ছানা ও অন্যান্য খাবার সরবরাহের কথা উল্লেখ করে আরও ২৫ হাজার টাকার একটি ভাউচার তৈরি করা হয়। তবে ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি বলে একাধিক শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অভিযোগকারী সূত্রের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুষদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সাবেক ডিন ড. ফয়সল কবির বিভিন্ন খাত দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের ৫০টিরও বেশি ভাউচার তৈরি করেছেন। এসব ভাউচারের সত্যতা ও ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান বলেন, “আমি আজই রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে এখনো অবগত নই। অভিযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে আমার কাছে এলে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


