গাজীপুরে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীকে ফোন করে ‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’- এমন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষক দলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ব্যবসায় বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না দিলে এলাকায় ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না এবং বিদ্যুতের খুঁটিতে টানা ইন্টারনেটের কেবল কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
সাজ্জাদ হোসেন ‘অ্যাডভান্স নেটওয়ার্ক সিস্টেম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসন থানা এলাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেট ব্যবসার জন্য বিটিআরসির লাইসেন্স রয়েছে। প্রায় দুই মাস ধরে তরিকুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁর ব্যবসায় বাধা দিয়ে আসছিলেন।
৩১ আগস্ট রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে তরিকুল ইসলাম ফোন করে আবারও চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে ইন্টারনেট সংযোগের কেবল কেটে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফোনালাপে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের কেউ ব্যবসা করতে পারবে না’- এমন বক্তব্যও উঠে আসে।
এর পরদিন, ১ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে, তেঁতুলতলা এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পান সাজ্জাদ। পরে কর্মচারীদের পাঠিয়ে বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রতিষ্ঠানের অপটিক্যাল কেবল কাটা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীর।
ঘটনার পর সাজ্জাদ হোসেন বাসন থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এতে কৃষক দলের কর্মী তরিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বাসন থানার এসআই মো. শিবলু মিয়া জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীকে হুমকি এবং তাঁর প্রতিষ্ঠানের কেবল কাটার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে; বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাজ্জাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের কারণে একজন বৈধ ব্যবসায়ীকে ব্যবসা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা এবং চাঁদা দাবির ঘটনা ব্যবসায়ী মহলে নতুন করে নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলেছে। তিনি নিজের ও কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


