নিজের কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে একটি শটগান বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন বরগুনার আমতলী উপজেলার এক ব্যক্তি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তিনি। আবেদনপত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশব্যাপী কন্যাসন্তানদের নিরাপত্তা এখন শূণ্যের কোঠায়। অগস্ত্য তাই একজন পিতার এমন আবেদন দেশে সরকারের ব্যর্থতায় কন্যাশিশুদের চরম অনিরাপত্তার দিক দেখিয়ে দিচ্ছে।
আবেদনপত্রে দেখা যায়, মাসুদুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি গত ২১ মে ২০২৬ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। তিনি নিজেকে একজন নিয়মশৃঙ্খলাপরায়ণ স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তার কন্যার বয়স বর্তমানে প্রায় ১৪ বছর।
আবেদনে মাসুদুল ইসলাম লিখেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের প্রতি বর্বরতার বিভিন্ন ঘটনা এবং এসব ঘটনার ভয়াবহ চিত্র দেখে তিনি তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, অনেক সময় রাষ্ট্রের পরিবর্তে সন্তানদের নিরাপত্তার দায়িত্ব বাবা-মাকেই নিজেদের হাতে নিতে হয়। সেই কারণেই নিজের কন্যাসন্তানের নিরাপত্তার জন্য তিনি একটি শটগান সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন।
আবেদনপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সন্তানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজে পালনের উদ্দেশ্যে বৈধ উপায়ে একটি শটগান পাওয়ার জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদন করছেন। এ বিষয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে তার নামে একটি শটগান বরাদ্দের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
আবেদনের সঙ্গে দুটি সেট আনুষঙ্গিক নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।
আবেদনকারী মাসুদুল ইসলাম বরগুনার আমতলী উপজেলার বাসিন্দা। চিঠিতে তার পিতার নাম, গ্রাম, ডাকঘর, থানা ও জেলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আবেদনটি গ্রহণের পর তার শটগান বরাদ্দের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা আবেদনপত্রে উল্লেখ নেই। বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইন, বিধিমালা ও সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে করা এ ধরনের আবেদন অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে একজন বাবার এমন উদ্বেগের বিষয়টি নতুন করে জননিরাপত্তা, শিশু সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কন্যা সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের যেন অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে না হয়, সে জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।


