মেহেরপুরের গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এক কর্মচারীকে মারধর, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গাংনী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইমন হোসেনসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি নিবন্ধনসহ নানা সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
মামলার বাদী ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী আবুল কালাম আজাদের অভিযোগ, গত ১৫ জুলাই রাতে গাংনী হাসপাতাল বাজার এলাকায় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করার পাশাপাশি অপহরণের চেষ্টা, চুরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে তিনি গাংনী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বিএনপি নেতা ইমন হোসেন, গাফফার হোসেন, ইয়ামিন হোসেন, বশির, জামিরুল ইসলাম, সোলায়মান হোসেন ও শামীম হাসানকে। মামলায় আরও চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাতনামা আসামির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে গাংনী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে জমি রেজিস্ট্রি, বণ্টননামা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত সেবাপ্রার্থী। জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি বা নিবন্ধনের অপেক্ষায় থাকা মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গাংনী সাব-রেজিস্ট্রার মাহফুজ রানা বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অতীতেও হামলা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই তারেক নাহিয়ান জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।


