জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো অঞ্চলে মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রবল কম্পনে ভবন কেঁপে ওঠে, সড়কে ফাটল দেখা দেয়, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং বহু স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। ভূমিকম্পের পরপরই জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) সম্ভাব্য ১ মিটার উচ্চতার সুনামি ঢেউয়ের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে এবং উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।
জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা ও মিয়াজাকি অঞ্চলে। এসব এলাকায় উদ্ধারকারী দল, দমকল বাহিনী, পুলিশ ও আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছেন।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে কুমামোতোর একটি এইয়ন (AEON) শপিং মলে। প্রবল ভূমিকম্পের পর ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে এবং সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা পড়েন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ কেটে জীবিতদের বের করে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েকজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিভিন্ন ভবন, কারখানা ও আবাসিক এলাকায় ধস এবং অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে জেআর কিউশু সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। উচ্চগতির শিনকানসেন ট্রেন পরিষেবাও স্থগিত রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, সেনদাই ও গেনকাই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন পর্যন্ত কোনো অস্বাভাবিকতা বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকির খবর পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। এ কারণে দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের আফটারশকের আশঙ্কায় সতর্ক থাকার এবং শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত থাকায় নিহত, আহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


