বাংলাদেশে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে হাম। এখনো পর্যন্ত ছয়শোর অধিক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং প্রায় ষাট হাজার শিশু আক্রান্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, একসময় হাম নির্মূলে যে বাংলাদেশ দৃষ্টান্তমূলক-উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল, (ইউনুসের অবৈধ ক্ষমতা দখলের পরে) গত দুইবছরে টিকার ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকটজনক হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাত ধরে ২০০০ সালেই হাম নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছিল। সে সময় প্রথম ডোজ এমআর টিকার কভারেজ ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ শতাংশে। একইভাবে দ্বিতীয় ডোজ টিকার কভারেজও ২০১২ সালে শেখ হাসিনার সরকারের নেতৃত্বে ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই ১২১ শতাংশে পৌঁছায়। এই অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে প্রশংসিত করেছিল এবং শেখ হাসিনাকে ডায়নামিক লিডার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে ডব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে হাম-রুবেলা টিকার জাতীয় ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার সরবরাহে অনিয়ম, মাঠপর্যায়ে সমন্বয়হীনতা এবং সময়মতো শিশুদের টিকার আওতায় আনতে না পারায় বহু শিশু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। হামের মত রোগকে শেখ হাসিনাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ইউনুসের অপশাসনের ফলাফলে হাম কেড়ে নিয়েছে শত শত বাচ্চা। এটাকে বিশেষজ্ঞরা শিশু গণহত্যা হিসেবেই দেখছেন। এই খুনের দায় একমাত্র ইউনুসের। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ইতোমধ্যে হাম আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫টি বাচ্চা মারা যাচ্ছে। জ্বর, শরীরে লালচে দানা, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, আক্রান্তদের বড় অংশই টিকাবঞ্চিত অথবা অসম্পূর্ণ টিকা গ্রহণকারী শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত শিশু থেকে খুব দ্রুত অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে নিয়মিত দুই ডোজ টিকার আওতায় রাখতে হয়। একসময় যে কার্যক্রম নিয়মিত ছিল শেখ হাসিনার হাত ধরে, ইউনুসের অপ-সরকার তা বন্ধ করায় এখন শয়ে শয়ে শিশুর লাশ ঝরছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, দেশের অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকার সংকট। অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে টিকাকেন্দ্রে গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে টিকা পাচ্ছেন না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমও আগের তুলনায় দুর্বল। ফলে গ্রামাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই জরুরি ভিত্তিতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা, বিশেষ টিকাদান ক্যাম্প চালু করা এবং শিশুদের শতভাগ টিকার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। অভিভাবকদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ। তাদের আশঙ্কা, অব্যবস্থাপনা ও টিকার ঘাটতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আইন বিশেষজ্ঞগণ এখনই ইউনুসকে গ্রেফতারে সুপারিশ জানাচ্ছে। এই গণহত্যার দায়ে ইউনুসকে এখনই বিচারের মুখোমুখি করা দরকার বলে আওয়াজ উঠছে।।


