সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হলে বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। ভিডিওর বিভিন্ন অংশে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রথমদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল এটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি ভুয়া ভিডিও বলে দাবি করে। কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক তথ্য যাচাইকারী (ফ্যাক্টচেক) প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধানে বলা হয়, ভিডিওটিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এটি সম্পাদিত বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নয়। এটি আসল ফুটেজ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওতে থাকা নারী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ্যে এলো, সে বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিয়ের সময়কাল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো সম্ভব হয়নি। তবে তাদের দাবি, বেশ কিছুদিন আগেই এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় স্ত্রীর ব্যাপারটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এখন জামায়াতে ইসলামী বলছে নজরুল সাহেবকে জিম্মি করা হয়েছে। এদিকে নৃবিজ্ঞানীরা বলছেন, ব্যক্তির আচরণ অনুযায়ী কোনোভাবেই এটা জিম্মি নয়; বরঙ স্বপ্রনোদিত আচরণ লক্ষ্য করা যায়।
ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


