যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘দাসত্বমূলক’ আখ্যা দিয়ে তা অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি সম্পর্কে জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে এবং এ বিষয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নীরবতা উদ্বেগজনক।
শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবিতে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি করা হলেও এর বিষয়ে জনগণকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তাঁর দাবি, মার্কিন সরকারের প্রকাশিত ৩২ পৃষ্ঠার দলিল পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, এটি সমান মর্যাদার দুই দেশের চুক্তি নয়; বরং বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, তার নির্দেশনামূলক একটি দলিল।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ প্রয়োজন বা মূল্য বিবেচনা না করেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে বাধ্য হতে পারে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে এবং সেই ঘাটতির বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর কর বৃদ্ধি ও ভর্তুকি কমানোর মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকার সমালোচনা করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ক্ষমতার রাজনীতির কারণে জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে তারা নীরব রয়েছে। ভারতের প্রভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রয়োজন-এমন ধারণাও তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, বহুজাতিক করপোরেট স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীন পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
পরে সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় উদীচী, সমগীত ও কোরাস। এছাড়া প্রাচ্যনাট ও বিবর্তন নাট্য পরিবেশন করে। কবিতা আবৃত্তি করেন তাহসিন রেজা, অনন্যা মাহমুদ ও মাসুদ মনিরুল।


