ভারতে নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তর (Jantar Mantar) এলাকায় সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি, ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিক্ষোভস্থল এবং আশপাশের এলাকায় ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখ শনাক্তকরণ) প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ব্যবহার করে মোট ২,৮৭৩ জন অপরাধের পূর্ব রেকর্ড থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের তথ্যমতে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ এবং অস্ত্র আইনে (Arms Act) গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। এছাড়া তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে পুলিশের নথিতে অভ্যাসগত অপরাধী (Habitual Offender) হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে।
তবে পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কেবলমাত্র বিক্ষোভস্থলে কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া মানেই তিনি সহিংসতায় জড়িত ছিলেন-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। প্রত্যেকের ভূমিকা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনো চলমান।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বর্তমানে বিক্ষোভ চলাকালে ধারণ করা সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও ক্লিপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন। এসব ফুটেজে পাথর নিক্ষেপ, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি ও ব্যক্তিগত যানবাহনে ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার মতো ঘটনার সঙ্গে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভাষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে সহিংসতায় জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এজন্য মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির পাশাপাশি অন্যান্য ফরেনসিক ও ডিজিটাল বিশ্লেষণও ব্যবহার করা হচ্ছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতেই প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


