দেশব্যাপী চলমান কথিত বিশেষ অভিযানে গত তিন মাসে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বানোয়াট মামলার কথিত আসামি, ‘চিহ্নিত’ অপরাধী ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগে জড়িত সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ মে থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৩৯ হাজার ২৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া অন্যান্য মামলা ও নিয়মিত অভিযানে আরও ১ লাখ ২ হাজার ৭২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফলে বিশেষ অভিযান ও অন্যান্য মামলা মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৯ জনে।
পুলিশ জানায়, চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস, সহিংসতা, অস্ত্র ও মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা।
অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২ হাজার ৮০২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১০৩টি ম্যাগাজিন, ৪৬টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গান পাউডার, ৬৩৮টি দেশীয় অস্ত্র, ১৮টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ, ১৭টি অস্ত্র ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং ১০ হাজার ৩০০টি চকলেট বোমা।
উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১০১টি পিস্তল, ৩৫টি শুটারগান, ৩৮টি এলজি, ১৯টি রিভলভার, ৯২টি বন্দুক, ১৫টি পাইপগান, ৭টি শটগান, ৩টি রাইফেল, ২টি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান এবং ১টি পেনগান।
মাদকবিরোধী অভিযানেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে পুলিশ। এ সময় ৯১ লাখ ২২ হাজার ৯৯৬ পিস ইয়াবা, ৯ হাজার ৮০ পুরিয়া হেরোইন, ৪ হাজার ৯৫ বোতল ফেনসিডিল, ৮ হাজার ২১১ বোতল বিদেশি মদ, ৪২৩ বোতল দেশি মদ, ৮ হাজার ৫৫২ পুরিয়া গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
এসব মাদক উদ্ধারের ঘটনায় ১৭ হাজার ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ২৪ হাজার ৮২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
পুলিশের ভাষ্য, বিশেষ অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকের বিস্তার রোধ এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে অব্যাহত থাকবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কারা দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বা কারা বিচারাধীন সে বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মূলত আওয়ামী লীগের পুনরুত্থানে সরকারের আতংকের জন্য এসব ভুয়া কথিত অভিযানের নামে মূলত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জেলে বন্দী করে আওয়ামী লীগের শক্তিকে খাটো করার চেষ্টায় ব্যতিব্যস্ত সরকারের পুলিশ বাহিনী।


