গত জুনে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছেছে। দেশটির আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৩০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন এবং ২১ হাজার ১২০ জন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভূমিকম্পের পর থেকে উদ্ধারকাজ চালানো হলেও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে, দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, ভূমিকম্পের পর সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম যথেষ্ট দ্রুত ছিল না। তাদের দাবি, দুর্যোগের পরপরই সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকেরাই উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছিলেন, সরকারি সহায়তা পৌঁছাতে সময় লেগেছে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট ও যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্যোগ মোকাবেলায় ভেনেজুয়েলা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রটের মতে, বিদেশে অবরুদ্ধ বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪ জন আইনপ্রণেতা ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে প্রায় ৩৭০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।


