বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে রাজধানীতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য, বিপুল পরিমাণ সিমকার্ড, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়েছে এবং একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় মাদকদ্রব্য, বিপুল পরিমাণ সিমকার্ড, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন যানবাহনসহ নানা ধরনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের মধ্যে রমনা বিভাগ থেকে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ২৬ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৪২ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৪১ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৩১ জন, মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১১৯ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ৪৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৮ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানের সময় জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে ২৫ হাজার ১০৯ পিস ইয়াবা, ২০ কেজি ৯৫০ গ্রাম গাঁজা, একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি হাইয়েস গাড়ি, একটি মাইক্রোবাস, ৮৩টি মোবাইল ফোন, ৬ হাজার ৬০০টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ, ১৫টি বাঁশের তৈরি মশাল, একটি আওয়ামী লীগের স্লোগানসম্বলিত ব্যানার এবং পাঁচটি প্ল্যাকার্ড।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব হলো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। যদি প্রতিদিনই এত বিপুল সংখ্যক অপরাধে জড়িত ব্যক্তি গ্রেপ্তার হন, তাহলে তা একদিকে পুলিশের অভিযানকে নির্দেশ করতে পারে, অন্যদিকে এটিও ইঙ্গিত করতে পারে যে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারকে শুধু গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যান নয়, অপরাধ কমাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিরও জবাব দিতে হবে।
বিশেষ করে মাদক, প্রতারণা, অবৈধ সিমকার্ডের ব্যবহার এবং সংগঠিত অপরাধের মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত উদ্যোগ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তাই কেবল অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; অপরাধের উৎস, নেটওয়ার্ক এবং পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনে সরকার কতটা সফল বা ব্যর্থ-তা মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত নির্ভরযোগ্য তথ্য, অপরাধের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা এবং সরকারের নীতিগত পদক্ষেপ; শুধুমাত্র এক দিনের গ্রেপ্তারের সংখ্যা নয়। নাগরিকদের প্রত্যাশা, সরকার অপরাধ দমনের পাশাপাশি এমন পরিবেশ তৈরি করবে, যেখানে অপরাধ সংঘটনের সুযোগই কমে আসবে।


