জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি নথি বিকৃত করে বগুড়া শহরের রেলওয়ের প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও ভরাটের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ জামায়াতের দুই নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জলাশয়কে কাগজে-কলমে ‘ভিটা’ দেখিয়ে সেখানে বহুতল মার্কেটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভরাটের কাজ বন্ধ করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন।
অভিযুক্তরা হলেন জামায়াতের কর্মী ছাইফুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাকিম।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়া সদরের চকবৃন্দাবন মৌজার ১ দশমিক ২৮ একর সরকারি জমি, যা সরকারি রেকর্ডে দীর্ঘদিন ধরে পুকুর বা প্রাকৃতিক জলাশয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, সেটিকে বিভিন্ন কৌশলে দখলের চেষ্টা চলে। শহরের স্টেশন রোডসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই জলাশয়ের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রথমে কৃষি লাইসেন্সের আওতায় জমিটি লিজ নেওয়া হয়। পরে সেটিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জলাশয়ে বালু ফেলে ভরাট শুরু হলে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের আপত্তির মুখে পরিকল্পনা আটকে যায়। এরপর জলাশয়ের ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।
রেলওয়ের পক্ষ থেকে গত বছরের ৫ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের কাছে জমিটির শ্রেণি পরিবর্তনের আবেদন করা হলেও তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এটি এখনও একটি প্রাকৃতিক জলাশয় এবং এটি ভরাট করা হলে বগুড়া শহরের জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ কারণে আবেদনটি বাতিল করা হয়।
তবে অনুসন্ধানে আরও গুরুতর তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পর নতুন একটি নথিতে একই জমিকে ‘ভিটা’ হিসেবে দেখানো হয়। অথচ মূল আরএস খতিয়ানে জমির শ্রেণি স্পষ্টভাবে ‘পুকুর’ উল্লেখ রয়েছে। এই অসঙ্গতি সরকারি নথি জালিয়াতি বা বিকৃতির অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলম অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জলাশয়ের ওপর নির্মিত অবৈধ টিনের বেড়া অপসারণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কাগজপত্রসহ হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পপি খাতুন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা গেছে, জলাশয়ে বালু ফেলে ভরাটের পাশাপাশি ড্রেনের সীমানা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণেরও চেষ্টা হয়েছে। তাই অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং কাগজপত্র যাচাইয়ের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


