সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই অনেকের কর্মভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দেশটির বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে। ইতোমধ্যে দেশে ছুটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে কেউ বিমানবন্দর থেকেই ফেরত আসছেন, আবার কেউ উচ্চমূল্যের বিমান টিকিটের কারণে সময়মতো ফিরতে পারছেন না। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক আর কূটনৈতিক তৎপরতার দুর্বলতাই মূল কারণ।
এই সংকটের মানবিক চিত্র ফুটে উঠেছে নোয়াখালীর আবুধাবিপ্রবাসী তাহের হোসেনের ঘটনায়। আট বছর ধরে আবুধাবির একটি লন্ড্রি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাহের দুই বছর পর এক মাসের ছুটিতে দেশে এসে স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বাংলাদেশের সব ধরনের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবুধাবি পৌঁছানোর পরই জানতে পারেন, তার কর্মভিসা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। হতাশা আর চোখের জল নিয়েই শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
তাহের বলেন, “দুই বছর পর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কাজে ফিরছিলাম। কিন্তু আবুধাবিতে নেমে জানতে পারলাম আমার ভিসা বাতিল। মুহূর্তেই মনে হলো সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সংসার চলবে কীভাবে, ঋণ শোধ করব কীভাবে- কিছুই বুঝতে পারছি না।”
তাহেরের মতো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন আরও বহু বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২২ জুলাই থেকে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাংলাদেশিসহ কয়েকটি দেশের কর্মীদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। অনেক প্রবাসী অনলাইনে নিজেদের ভিসার স্ট্যাটাস যাচাই করে দেখেছেন, সেখানে ‘Cancelled’ দেখাচ্ছে। অথচ নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কর্মচুক্তি বৈধ থাকা সত্ত্বেও এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে ছুটিতে দেশে থাকা বহু প্রবাসী এখন কর্মস্থলে ফিরবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও দোটানায় রয়েছেন। কারণ দেশে ফিরলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে প্রবাসীদের মধ্যে।
এদিকে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একমুখী বিমান টিকিটের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আগে যেখানে বাংলাদেশ থেকে আমিরাতগামী টিকিট ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন একই টিকিটের মূল্য ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন ছুটিতে থাকা শ্রমিকরা।
রাস আল খাইমাহপ্রবাসী এসএম করিম জানান, পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটাতে দেশে এসেছিলেন। এখন দ্রুত কর্মস্থলে ফিরতে চাইলেও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে টিকিট কাটতে পারছেন না। তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগেও যে টিকিট ৩৫ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন ৯৫ হাজার টাকা চাইছে। এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী শওকত আলী মীরন। আগামী সপ্তাহে তার দেশে আসার কথা থাকলেও ভিসা বাতিলের আশঙ্কায় তিনি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সুস্পষ্ট তথ্য পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।


