মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা করা অন্তত ৫৩০ জন রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীর ভাগ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ২৯ জুন দুটি নৌকায় করে যাত্রা শুরুর পর থেকে তাদের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, উত্তাল সমুদ্রে নৌকা দুটি ডুবে গিয়ে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৯ জুন রাখাইনের সিন তেত মাও এলাকা থেকে দুটি পুরোনো মাছ ধরার ট্রলার যাত্রা শুরু করে। নৌকাগুলোতে আনুমানিক ৫৩০ জন রোহিঙ্গা ছিলেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রার পর প্রায় তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও তাদের কারও সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়নি।
রোহিঙ্গাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আরাকান প্রজেক্টের পরিচালক ক্রিস লেওয়ার মতে, বিচ্ছিন্ন বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, একটি নৌকা যাত্রার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবং অন্যটি কয়েক দিন পর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে যাওয়ার সময় ডুবে যায়।
এদিকে বাংলাদেশের উপকূল থেকে এক রোহিঙ্গা নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের ইরাবতী বদ্বীপ ও মন রাজ্যের মধ্যবর্তী সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা আরও কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখেছেন। এসব ঘটনাই নৌকাডুবির আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে।
মানবপাচারকারীরা রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ ট্রলারে সমুদ্রে পাঠাচ্ছে। প্রতিজনের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় তিন হাজার মার্কিন ডলার আদায় করা হয়। অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে যাত্রীদের নির্যাতন করে সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারের শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অন্যদিকে রাখাইন রাজ্যে এখনও প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যুদ্ধ, খাদ্যসংকট, কর্মসংস্থানের অভাব, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করছেন।
গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ১০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে নৌপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ প্রস্থানপথ নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশ এখনো তাদের আশ্রয় দিতে অনাগ্রহী। ফলে মানবপাচারকারীদের জালে আটকে পড়ে রোহিঙ্গাদের প্রাণঘাতী সমুদ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে।
নিখোঁজ ৫৩০ জনের ভাগ্য সম্পর্কে দ্রুত কোনো তথ্য না মিললে এটি সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের অন্যতম বড় সমুদ্র দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।


