দেশে হামের ভয়াবহ বিস্তারের মধ্যেই সামনে এসেছে উদ্বেগজনক এক তথ্য- হামে মৃত শিশুদের ৯১ দশমিক ৪ শতাংশই কোনো এমআর টিকা নেয়নি। কালের কণ্ঠের প্রতিবেদনে প্রকাশিত ইপিআইয়ের সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আনতে সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল? কারণ একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং মৃতদের বড় অংশের টিকাবঞ্চিত থাকা টিকাদান কর্মসূচির বাস্তব বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৮১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৮০ শিশুর। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি শিশু।
হাম প্রতিরোধে টিকাদানই অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অথচ ইপিআইয়ের সমীক্ষায় মৃত শিশুদের ৯১.৪ শতাংশ টিকাবঞ্চিত থাকার তথ্য সামনে আসায় টিকা কর্মসূচির আওতা, নিয়মিত টিকাদানে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্তকরণ এবং মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এত বিপুলসংখ্যক টিকাবঞ্চিত শিশুর হাম আক্রান্ত হওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু কাগজে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নয়, প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছেছে কি না- সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে উচ্চমাত্রার টিকাকভারেজ প্রয়োজন। ২০২৬ সালের হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত একটি পরিস্থিতি বিশ্লেষণেও টিকাদানের ঘাটতি ও বাদ পড়া শিশুদের বড় জনগোষ্ঠীকে প্রাদুর্ভাবের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


