৩২ জন জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে বিএনপি সরকার। সোমবার (২৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী তারা অবসর-সংক্রান্ত সব ধরনের সরকারি সুবিধা পাবেন। আইনের এ ধারায় ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই জনস্বার্থে অবসরে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছে সরকার। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবার আরও ৩২ জন সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে একই প্রক্রিয়ায় আরও ২২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সরকারি চাকরি আইনের বিধান অনুযায়ী ২৫ বছরের চাকরিসীমা পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে কারণ উল্লেখ না করেই জনস্বার্থে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগেও একই ধরনের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো কর্মকর্তারা হলেন- পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ফেনীর ওয়াহেদুজ্জামান, খাগড়াছড়ির মো. শহীদুল ইসলাম, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, সুনামগঞ্জের মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, কুমিল্লার আবুল ফজল মীর, চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, শেরপুরের আনারকলি মাহবুব, খুলনার মো. হেলাল হোসেন, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবির মুরাদ, মাগুরার মো. আলী আকবর এবং রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের।


