প্রায় দুই দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম দুটি-লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। দুই কিংবদন্তির অসাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু ফুটবলপ্রেমীদেরই নয়, ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে গেলেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে বিতর্ক থামেনি। সেই বিতর্কে এবার নিজের স্পষ্ট অবস্থান জানালেন বার্সেলোনার সাবেক ডিফেন্ডার ও স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী তারকা জেরার্ড পিকে।
ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, গত ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে মেসি ও রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ধরনের ফুটবল দর্শন উপহার দিয়ে বিশ্বকে উপভোগ করিয়েছেন এক অবিশ্বাস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাদের খেলার ধরন আলাদা হলেও দুজনই নিজেদের অসাধারণ পারফরম্যান্স দিয়ে ফুটবলকে নিয়ে গেছেন নতুন এক উচ্চতায়।
পিকের ভাষায়, “মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো গত ১৫ থেকে ২০ বছরে দুই ভিন্ন ধরনের ফুটবল শৈলীর মাধ্যমে অবিশ্বাস্য এক লড়াই উপহার দিয়েছে। এখন তাদের ক্যারিয়ারের শেষ সময় চললেও এই বিশ্বকাপে তারা আবারও দেখিয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পারফর্ম করার সামর্থ্য এখনো তাদের রয়েছে।”
তবে দুই কিংবদন্তির মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হলে পিকের কাছে কোনো দ্বিধা নেই। তার মতে, সর্বশেষ বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সই আরও একবার প্রমাণ করেছে, ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার তিনিই।
পিকে বলেন, “আমি মনে করি এই বিশ্বকাপেও মেসি আবার প্রমাণ করেছে যে ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় সে-ই। সে অনেক গোল করেছে, নিজের দলকে আরেকটি বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি ঠিকই, কিন্তু সে যা অর্জন করেছে, তা নিয়ে গর্ব করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে।”
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা শিরোপা হাতছাড়া করলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে লিওনেল মেসি। আটটি ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি করেন আটটি গোল এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও চারটি গোল করান। দলের ফাইনালে ওঠার পেছনে তার নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
অন্যদিকে, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও নিজের স্বকীয়তা ধরে রেখে বিশ্বকাপে লড়াই চালিয়ে গেছেন। মেসির সৃজনশীলতা, ড্রিবলিং, বল নিয়ন্ত্রণ ও নিখুঁত পাসিং যেমন তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তেমনি রোনালদোর গতি, শক্তি, আকাশে আধিপত্য এবং দুর্দান্ত গোল করার ক্ষমতা তাকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলস্কোরারে পরিণত করেছে। দুই ভিন্ন পথ ধরে সাফল্যের শিখরে ওঠা এই দুই মহাতারকা ফুটবলকে সমৃদ্ধ করেছেন এক অনন্য যুগের মাধ্যমে।
বার্সেলোনায় এক দশকেরও বেশি সময় একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করেছেন পিকে ও মেসি। এই সময়ে তারা একসঙ্গে জিতেছেন অসংখ্য লা লিগা, কোপা দেল রে এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা। ক্লাব ছাড়ার পর তাদের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গুঞ্জন শোনা গেলেও, মেসির ফুটবল প্রতিভা ও অর্জনের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধা জানাতে কখনোই কার্পণ্য করেননি পিকে।
তার সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই শ্রদ্ধারই আরেকটি প্রতিফলন। পিকের বিশ্বাস, শিরোপা না জিতলেও সর্বশেষ বিশ্বকাপে মেসির নেতৃত্ব, পারফরম্যান্স এবং প্রভাব আবারও প্রমাণ করেছে-ফুটবল ইতিহাসে সর্বকালের সেরাদের আলোচনায় লিওনেল মেসির অবস্থান সবার ওপরে।


