নাটোরের লালপুরে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
গত সোমবার দিনের বেলায় লালপুরে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে মাত্র ৯ দশমিক ৪২ মেগাওয়াট। এর আগের দিন রোববার রাতে চাহিদা ছিল ২৫ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ ছিল ১৫ মেগাওয়াট।
বিদ্যুতের দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ ও বিদ্যুৎনির্ভর পেশাজীবীরা। ওয়ালিয়া গ্রামের অটোরিকশাচালক সোহেল আলী বলেন, অটোর ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় নিয়মিত গাড়ি নিয়ে সড়কে বের হতে পারছেন না। এতে আয় কমে গিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
লালপুর গ্রামের গৃহিণী আলিজা পারভীন বলেন, “ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে রাতে ঘুমাতে পারি না। বিদ্যুৎ না থাকায় ট্যাঙ্কে পানি তুলতেও পারছি না।”
শুধু ঘরবাড়িতেই নয়, বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও। ওয়ালিয়া গ্রামের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছেন না।
শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে এর সরাসরি প্রভাব। গনি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের মালিক মো. গনি বলেন, “কারখানায় কাজের প্রচুর চাপ। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ করা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।”
তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


