গাইবান্ধায় অভিযানে বাধা, ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
গাইবান্ধায় অবৈধভাবে মজুত করা ইউরিয়া সার উদ্ধারে অভিযান চালাতে গিয়ে কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা, লাঞ্ছিত এবং অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় একটি গুদাম থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কামারজানি বন্দরে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামারজানি বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সী জেলার বাইরে থেকে এনে তার দোকানে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার মজুত করে রেখেছেন- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালায় কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুল আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীর গুদামে মজুত করা ইউরিয়া সারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সানোয়ার মুন্সীর ছোট ভাই জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেন এবং তাদের গুদামের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। এতে জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদক বিপ্লব ইসলাম, সোহেল রানাসহ স্থানীয় পাঁচ সাংবাদিক লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ হন।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম ও কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পরে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে কামারজানি বন্দরের খুচরা সার ও কীটনাশক বিক্রেতা সানোয়ার মুন্সীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তার গুদাম থেকে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।
কামারজানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, কামারজানি ইউনিয়নে ভুট্টার চাষ বেশি হওয়ায় সারের চাহিদাও বেশি। নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে পাওয়া সার দিয়ে অনেক সময় কৃষকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে হয়তো বাইরে থেকে সার আনা হয়েছিল। তবে অবৈধভাবে সার আনা বা মজুত করা ঠিক হয়নি।
সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কৃষি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের সঙ্গে গুরুতর কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে সেখানে যা ঘটেছে, তা মোটেও ঠিক হয়নি।
তিনি আরও জানান, অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে ব্যবসায়ী সানোয়ার মুন্সীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা সার পরদিন নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।


