বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বাইরে থাকা অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবু তাহেরের একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কৌতূহল। তিনি বলেছেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে এলে জামায়াতের আপত্তি নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে এমন মন্তব্যের কথা উঠে এসেছে।
তবে এখানেই তৈরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈপরীত্য। কারণ, মাত্র কয়েকদিন আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ তিনি দেখছেন না। তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা ও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলে দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের বিরোধিতা করা হয়।
ফলে নায়েবে আমিরের ‘আপত্তি নেই’ মন্তব্য এবং আমিরের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান- দুই বক্তব্য সামনে আসায় জামায়াতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে না; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়াও।
২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। একই সময়ে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিতে পারেনি।
এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা বলেন।
তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারত সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি কাঠামোর আওতায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। দলটির অনুপস্থিতিতে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে সংসদের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে অবস্থান করছে। ফলে আওয়ামী লীগ যদি কোনোভাবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারে, তাহলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।


