নিজেকে জনগণের প্রতিনিধি ও ‘আওয়ামী দোসর’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সম্পত্তি নয়; এটি জনগণের দল, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রামের রাজনৈতিক প্রতীক। আর সেই অর্থে তিনি নিজেকে জনগণের দোসর বলেই মনে করেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আওয়ামী লীগের অতীত-বর্তমান এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন তিনি।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলি, আমি আওয়ামী দোসর, আওয়ামী মানে জনগণ, আমি জনগণের দোসর। জনগণের পক্ষে কথা বলা, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করাই আমার লক্ষ্য।”
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের প্রকৃত চেতনা নিহিত রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। দলটির জন্ম হয়েছে বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম থেকে, তাই আওয়ামী লীগকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই। নিজের একটি পুরোনো সংসদীয় বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে আমার বক্তৃতার প্রথম লাইনটা শোনেন, আমি মুসলমান, আমি আওয়ামী লীগার। সেই আওয়ামী লীগ মাওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবের নয়, সে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নয়, সে আওয়ামী লীগ আমার, সেই আওয়ামী লীগ জনগণের।”
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। কোনো দল যদি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে তার অস্তিত্ব সংকটে পড়ে। আওয়ামী লীগের শক্তির উৎসও জনগণ, আর সেই জনগণই দলটির প্রকৃত মালিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আওয়ামী লীগের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে দলটির নাম জড়িয়ে আছে। ফলে এই দলকে ব্যক্তি-নির্ভর না করে জনগণকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি। আলোচনায় তিনি রাজনৈতিক মতভেদকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভিন্নমত থাকতেই পারে, কিন্তু জনগণের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে আওয়ামী লীগের আদর্শিক ভিত্তি ও জনগণনির্ভর রাজনীতির প্রতি গুরুত্বারোপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর ভাষায়, “আওয়ামী মানে জনগণ। জনগণের পাশে থাকা, জনগণের জন্য কথা বলা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামই প্রকৃত আওয়ামী রাজনীতি।”


