নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ, ম্যাচ ফিক্সিং ও আর্থিক ক্ষতির কারণে চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তামিম ইকবাল বলেন, “আমার মনে হয় না। এ বছর বিপিএল হবে না।”
২০১২ সালে যাত্রা শুরু করা বিপিএল বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠের খেলার পাশাপাশি নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। ম্যাচ ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ, বেটিং-সংক্রান্ত অনিয়ম, সূচি পরিবর্তন এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের নানা টানাপোড়েনের কারণে প্রতিযোগিতাটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত দুই মৌসুমে বিপিএল আয়োজন করতে গিয়ে বিসিবির প্রায় ৪০ কোটি টাকা (প্রায় ৩২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার) লোকসান হয়েছে।
বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তামিম বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনিও এমন পরিস্থিতিতে হতাশ হতেন। তবে তার মতে, বিপিএল এমনভাবে আয়োজন করা প্রয়োজন, যাতে এই টুর্নামেন্ট নিয়ে বিসিবি গর্ব করতে পারে।
“গত কয়েক বছরে যা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা কি গর্বিত? সম্ভবত নই”- বলেন বিসিবি সভাপতি।
এরই মধ্যে বিপিএল ঘিরে দুর্নীতিবিরোধী তদন্তও হয়েছে। গত মে মাসে বেটিং-সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন ক্রিকেটার ও একাধিক দলের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বিসিবি।
এ ছাড়া সর্বশেষ বিপিএল আসরে দেশীয় ক্রিকেটারদের একপর্যায়ে বয়কটের কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচের সূচিতেও পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। বিসিবির কর্মকর্তা নাজমুল ইসলামের খেলোয়াড়দের নিয়ে করা মন্তব্য এবং তাদের আর্থিক মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে কেন্দ্র করে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে বিপিএল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেননি তামিম। বরং টুর্নামেন্টটিকে নতুনভাবে, সঠিক পরিকল্পনা ও কাঠামোর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
তামিম বলেন, “আমি তাড়াহুড়ো করতে চাই না। আমি এটি সঠিকভাবে করতে চাই। যদি এতে ছয় মাস বা ১২ মাস সময় লাগে, আমি সেই সময় নেব।”
অর্থাৎ, চলতি মৌসুমে বিপিএল মাঠে না গড়ালেও ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কাঠামোয় টুর্নামেন্টটি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে বিসিবি। তবে কবে নাগাদ নতুন আঙ্গিকে বিপিএল ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।


