কলকাতার উপকণ্ঠে সন্দেহভাজন জঙ্গি নেটওয়ার্কের সন্ধান পাওয়ার দাবিতে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। পুলিশের দাবি, আল-কায়দার আদর্শে অনুপ্রাণিত একটি চরমপন্থী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী ও উসকানিমূলক প্রচার চালানোর অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও বজবজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে STF। ধৃতদের পরিচয় জানাদুল কিবরিয়া বেগ (৬০) এবং শেখ সফিক ওরফে শফিক শেখ (৩৯) হিসেবে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে দুজনকেই ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
নোদাখালি থানায় দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের সূত্র ধরেই প্রথমে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহজনক ও উসকানিমূলক ডিজিটাল কর্মকাণ্ডের তথ্য উঠে আসে। পরে তদন্তের দায়িত্ব নেয় STF। তদন্তকারীদের দাবি, বেশ কয়েক মাস ধরে দুই ব্যক্তির অনলাইন কার্যকলাপ, যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের ওপর নজর রাখা হচ্ছিল।
জানাদুল কিবরিয়া বেগ ও শেখ শফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Mughal-e-Azam’ এবং ‘Jihad-i-Sabibillah’ নামে একাধিক পেজ বা প্রোফাইল পরিচালনা করতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভারত ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর পাশাপাশি উগ্রপন্থী মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা করা হতো।
স্থানীয় যুবকদের অনলাইনে প্রভাবিত করে ধীরে ধীরে তাঁদের আল-কায়দার ভারতীয় শাখা AQIS (Al-Qaeda in the Indian Subcontinent)-এর মতাদর্শের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে আরও যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিভিন্ন সামাজিক জমায়েতের আয়োজন করে নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে সমর্থন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে STF।
পুলিশের ধারণা, এসব জমায়েতের মাধ্যমে নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং নিজেদের মতাদর্শের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। গ্রেফতার দুজনের সঙ্গে আরও কারও যোগাযোগ ছিল কি না, তাঁদের সঙ্গে অন্য কোনো সংগঠন বা নেটওয়ার্কের সম্পর্ক রয়েছে কি না- এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে STF। পুলিশের দাবি, জানাদুল কিবরিয়া বেগ প্রায় আড়াই বছর ধরে ভাঙড়ের পানাপুকুর এলাকায় বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই এলাকায় তিনি ‘জানাদুল কিবরিয়া’ নামেই পরিচয় ব্যবহার করতেন। স্থানীয় এক পঞ্চায়েত সমিতি-সংক্রান্ত রাজনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি বাড়িটি ভাড়া পেয়েছিলেন বলেও পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় যথাযথ পরিচয়পত্র যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতার দুজনের কাছ থেকে কী ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস, নথি বা অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে এবং সেগুলো থেকে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য মিলেছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তাঁদের মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, যোগাযোগের তালিকা এবং আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
STF-এর মূল লক্ষ্য এখন এই নেটওয়ার্কের পরিধি নির্ধারণ করা- গ্রেফতার দুজনই কি এর সঙ্গে যুক্ত, নাকি তাঁদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন। একই সঙ্গে কথিত AQIS-যোগের দাবির পেছনে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।


