ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় নিখোঁজের দুই দিন পর বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে নায়েব আলী (৬০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ধজনগর গ্রামে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নায়েব আলী ধজনগর গ্রামের মৃত আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাতের খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতো বাড়ির পাশের কলাবাগানে যান নায়েব আলী। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। বিষয়টি জানার পর পরিবারের লোকজন আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে কলাবাগানের পাশে তাঁর ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। এতে তাঁদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই জিনিসপত্র পাওয়ার সূত্র ধরে পাশের ডোবায় তল্লাশি চালানো হলে সেখানে নায়েব আলীর মরদেহ পাওয়া যায়।
নায়েব আলীর পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কালশিটের চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তাঁরা।
নিহতের ছোট ভাই ও সাবেক সেনাসদস্য মনির হোসেন জানান, কিছুদিন আগে স্থানীয় মাদক কারবারিদের একটি আস্তানা উচ্ছেদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নায়েব আলী। এ কারণে মাদক কারবারিদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরিবারের ধারণা, মাদক কারবারি কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের রোষানলে পড়েই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহে আঘাত ও কালশিটের দাগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


