প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে যান নুরুল হক। পরে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এখন নির্বাচিত সরকারের উচিত বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা। প্রয়োজনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো উগ্রবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের কথিত গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯৭১ সালে আরও ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাদের কর্মকাণ্ডও নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
নুরুল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ না করলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপরও পড়তে পারে। তাঁর দাবি, জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশকে ঘিরে জঙ্গিবাদী হুমকির বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত-শিবির অস্ত্র পরিচালনায় সক্ষম ক্যাডার তৈরি করে বলেও অভিযোগ করেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াত-শিবির নিজেদের মজলুম হিসেবে উপস্থাপন করলেও গত ছয় মাসে তাদের কর্মকাণ্ডে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। এখন থেকেই এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিহত করা প্রয়োজন। তা না হলে তারা ‘ভাইরাসের মতো’ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত-শিবির ও আওয়ামী লীগকে একই ধরনের ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে আখ্যা দিয়ে নুরুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার সুযোগ পেয়ে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। আর জামায়াত-শিবির ক্ষমতায় না থেকেও বিভিন্ন সময়ে যে ধরনের তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতে তাদের অতীতের সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও অন্যান্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সামনে এসেছে।
বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জামায়াত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন নুর। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে জামায়াত। এসব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের লোকজনকে শেয়ার দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, মূলত তারা ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা চায়; কোনোভাবেই তাদের এমন সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
নুরুল হক আরও বলেন, জামায়াত সুযোগ পেলে দেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। একই সঙ্গে ওয়াজ ও জুমার খুতবায় আমির হামজার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। এসব বক্তব্যে বিদ্বেষ, বিভাজন বা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য থাকলে জনগণকে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আমির হামজার পক্ষে দলটির দেওয়া বিবৃতিরও সমালোচনা করেন নুরুল হক। এর মাধ্যমে আমির হামজার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রতি জামায়াতের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আমির হামজা, সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য নজরুল ইসলামসহ দলটির কয়েকজন নেতাকর্মীর কর্মকাণ্ড জামায়াতের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষে জামায়াতে ইসলামীর নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।


