ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলামের কলাম
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মেটিকুলাস ডিজাইনের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করতে গিয়ে তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতা পরিচালনায় বরাবরই ব্যর্থ এবং দিন দিন এই ব্যর্থতার পাল্লা ভারী হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ব্যর্থতা:
বিএনপি আর বিদ্যুৎ যেন একেই সংসারের দুই সতিন! বিদ্যুৎ নিয়ে কেলেংকারী বিএনপির পিছু ছাড়েনা!২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ছিল! তখন প্রতিদিন গড়ে ৮-১০ ঘন্টা লোডশেডিং এর কবলে মানুষের জীবন ছিল অসহনীয়।
দুই দশক পর এসে দেশে অনেক জায়গায়ই একই অবস্থা। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো তখন রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপি এখনো রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় সেই বিএনপি। তখনকার বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকু এখন পুর্নমন্ত্রী! তখন মানুষের জীবন হয়ে উঠেছিল দুর্বিষহ ও পোশাক খাতে নামেছিল বড় ধরনের ধশ। তৎকালীন বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সবচেয়ে বড় অভিযোগের বিষয় ছিল গাম্বা বা বৈদ্যুতিক খুঁটি! অভিযোগ ছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরী না করে কেবল খুটি স্থাপনের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছিল। অব্যবস্থাপনা এমন অবস্থায় পৌঁছে ছিল যে খোদ দাতাসংস্থা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।২০০৪ সালে বিশ্ব ব্যংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রিস্টিন ওয়ালিদ ৩২ টি দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি লিখে বিদ্যুৎ খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের তাগিদ দেন। তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ খাতে সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ উঠে, সেই দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রীকে বর্তমান তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের পুর্নমন্ত্রী হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেন। বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বিদ্যুৎ খাতের অভাবনীয় উন্নতি সাধন করলেও দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট চলছে। দেশ ও মানুষের জীবন সবকিছুই মনে হয় অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে আজ।
বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবনে ভোগান্তি যখন চরমে পৌঁছেছে, এখনো সরকার জনগণের সামনে কোনো সঠিক, গ্রহণযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনা হাজির করতে পারছে না। বরং সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলছেন, ‘গ্রামে কোন লোড শেডিং নাই। কারেন্টের খাম্বাগুলো লম্বা হওয়ার কারণে কারেন্ট আসতে দেরি হয়।’ মন্ত্রীদের এমন কথা বলা কি আদৌ সাজে ? এতে করে কি প্রমানিত হচ্ছে না যে, তারা জনগণের এই সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ফলে জনমনে একধরনের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে পাশাপাশি শিল্প- প্রতিষ্টান বন্ধের পথে এমনকি কিছু দিন আগে হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানার উৎপাদন বন্ধ ও কর্মহীন হয়ে পরে লক্ষাধিক শ্রমিক এবং কিছু এলাকায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও টানা ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। ক্ষুব্ধ মানুষ বহু স্থানে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শুধু তাই নয় গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে গ্যাসের তিব্র সংকটের কারনে মানুষ আদি যুগের মতো মাটির চুলায় রান্না- বান্না করছে।
স্বাস্থ্য খাতে ব্যর্থতা:
২০২৪/২৫ অর্থ বছরের বাজেটে আওয়ামী লীগ সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিয়েছিল ৪১ হাজার কোটি টাকা।
হামের টিকা সহ অন্যান্য টিকা কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা।
কিন্তু ৫ আগস্টের পর মবের জনক ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইপিআরের টিকা কেনেনি। এই শিশু হত্যার দায় ইউনূস ও নূরজাহানের।
ইউনূস সরকারের ইচ্ছাকৃত গাফিলতির কারণে সৃষ্ট হামের মহামারি থামাতে বিএনপি সরকার এখন হিমশিম খাচ্ছে ।
তাছাড়া চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ কেনাকাটায় দুর্নীতির চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ যা জনস্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এই সরকার।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি রুখতে ব্যর্থতা:
যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পানি পাচ্ছেনা সেখানে তারেক রহমানের তথা বিএনপি সরকার জনগনের সাথে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে তামাশা সৃস্টি করছে এবং এই সরকার ফ্যমিলি কার্ড প্রস্তুত ও বিতরনের খরচ দেখিয়েছে ৮২ হাজার কোটি টাকা, প্রতিটা অনুস্টানের খরচ করা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা মাঠ পর্যায় যারা সার্ভে করবে কারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য সেইটার জন্য খরচ ধরেছে ৮ কোটি টাকা, এবার বুজতেইতো পারছেন আমার আপনার ট্যাক্সের টাকা কোথায় যায় তাছাড়া সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে ৩২১ কোটি টাকার ট্যাব কিনা বিলাসিতা ছাড়া আর কিছু নয়। এখানেই বিএনপি সরকার থেমে যায়নি হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনালের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ঝাউ,কৃষ্ণচূড়া ও কাঠ গোলাপের চারা সহ যেসব গাছ লাগানো হয়েছে এক একটির দাম ধরা হয়েছে ১ লক্ষ টাকা অথচ বিমানবন্দরের আশেপাশের নার্সারীতে এই চারা গাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০- ৫০০ টাকায়। শুধু চারা গাছ কিনা বাবদ লোপাট করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা আর এর সঙ্গে গাছের যত্ন ও পরিচর্যা বাবদ আরো যোগ করা হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। নিয়ন্ত্রকের পরিদর্শনে দেখা গেছে ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় দফায় দফায় বেড়ে ২২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে এর মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে জলাশয় সংস্কারের নামে দিয়েছিল ১০ কোটি টাকা সেখানে আগে থেকেই প্রাকৃতিক ১টি জলাশয় ছিল। এই হল তারেক রহমানের I have a plan.
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর নিয়োগে চরম অনিয়ম:
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ইউনিভার্সিটির একজন এম এ পাশ একাউন্টেন্ট কে সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ দিয়েছেন এটা শুধু বাংলাদেশে না বিশ্ব রেকর্ড। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হয়তো বিন্দু পরিমান ধারনা নেই যে, একজন সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর পৃথিবীর যে কোন জায়গার গভর্নরের পোস্ট যে কোন অর্থনীতি জন্য যে কোন মন্ত্রীর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন হল কেন এই নিয়োগ দেওয়া হলো? উত্তর হলো সব প্রতিষ্ঠানে যেভাবে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এখানেও ঠিক সেই ভাবেই দেওয়া হয়েছে। এই পৃথিবীর সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হচ্ছে সুদান, সুদানের সেন্ট্রাল ব্যাংকের গভর্নর মি: সালাম হাসান ইউএস (USA) এর বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি থেকে PhD করা, সে ক্ষেত্রে একজন একাউন্টেন্টের সেন্ট্রাল ব্যাংকে কোন কাজ নেই।
আমি বলবো আমরা যদি আর্থিক খাতকে Reform করতে চাই তাহলে সঠিক জায়গায় সঠিক লোক বসাতে হবে।
মব সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি :
ড. ইউনুসের শাসনামলে আর কিছু হোক বা না হোক, মব সন্ত্রাসের বাম্পার ফলন হয়েছে।তেমনি মব সন্ত্রাসকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে তারেক রহমানের সরকার। টিআইবির (TIB) রিপোর্ট অনুযায়ী, সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ টি খুন, ১৯৬ টি অপহরণ,ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯- ৭১ জন, পুলিশের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯ টি, চুরির ঘটনা ২২১৪ টি এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩৪৯৬ টির কথা জানায় সংস্থাটি। ইউনূস চলে গেছেন, কিন্তু মব সন্ত্রাস রেখে গেছেন তাঁর অপশাসনের স্মারক হিসেবে। জামাতের শিশু সংগঠন এনসিপির (NCP) কতিপয় কিছু লোকজন ১৫ আগস্ট সকালে ও দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা এবং ভিডিও ধারণকারী বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ও অনুসারীদের মারধর করা হয়।মব সংস্কৃতির জনক হিসেবে স্বীকৃত হতে পারেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূস।
বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। দুর্বৃত্তরা নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে, যা সমাজে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। মব সন্ত্রাসকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে এর ইন্ধনদাতা ও নেতৃত্বদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সরকারের।
সত্যিকার অর্থে, ৫ই আগস্টের পর দেশ ও দেশের মানুষ ভাল নেই।
৮৬ বছর বয়স্ক ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর নামে লুটপাট ও জাতির সাথে প্রতারনা করে দেশকে তলাবিহীন ঝুরি বানিয়ে চলে গেছে। এই “কুলাঙ্গার” দেশ নয় পুরো জাতিকে ধংস করে দিয়ে গেছে তার নাম বাংলাদেশের ইতিহাসে কল্ককিত এক কালো অধ্যায় হিসেবে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বাঙ্গালী জাতির হৃদয়ে।
অপর দিকে মেটিকুলাস ডিজাইনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তারেক রহমানের” আই হ্যাব এ প্ল্যান ( I have a plan)” ও টেক ব্যাক বাংলাদেশ (Take back Bangladesh) ” স্লোগান দিয়ে আজ দেশকে আবারও পূর্বের অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়েছেন। দেশ বাসীর কাছে এখন একটি প্রশ্নই ঘুর-পাক খাচ্ছে দেশকে পিছনে নিয়ে যাওয়াই কি ছিল তারেক রহমানের
I have a plan.
ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম
লেখক, সংগঠক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক


