বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে এ-সংক্রান্ত সম্পূরক চুক্তি সই করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
নতুন চুক্তির আওতায় পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান। এর আগে চলতি বছর বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। দুই দফার চুক্তি মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট অর্ডার দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।
এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন উড়োজাহাজ কেনাবেচার চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় বাণিজ্যিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, বোয়িং ও মার্কিন উৎপাদন খাতের জন্য এটি একটি বড় দিন। তার দাবি, বাংলাদেশ ও তুরস্ক মিলিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ১১১টি উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ৫০টি উড়োজাহাজ কেনার বিকল্প রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিপুল অঙ্কের উড়োজাহাজ বিক্রি যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানে সহায়তা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানি এবং মার্কিন শ্রমিকদের সমর্থন- এই নীতির সুফল বোয়িং পাচ্ছে। তিনি বোয়িং ও প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের অভিনন্দনও জানান।
নতুন চুক্তিকে বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘপাল্লার রুটে ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
এর আগে করা ১৪টি উড়োজাহাজের অর্ডারের সঙ্গে নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমানবহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা আরও বড় আকার পেল।
চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


