বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য শিরোপাহীন এক সান্ত্বনার লড়াই হলেও কিলিয়ান এমবাপ্পের কাছে এটি ছিল ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু গোল্ডেন বুটের দৌড়েই শীর্ষে ওঠেননি, ভেঙে দিয়েছেন লিওনেল মেসির বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণভাগে ছিলেন দারুণ সক্রিয় এমবাপ্পে। দলগত আক্রমণের পাশাপাশি নিজের গোলের সুযোগ তৈরিতেও ছিল তার বাড়তি মনোযোগ। প্রথমার্ধে কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পাননি। তবে বিরতির পরই বদলে যায় দৃশ্যপট।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাইকেল ওলিসের নিখুঁত পাস থেকে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিজের প্রথম গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। সেই গোলেই চলতি বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৯-এ, যা তাকে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সবার ওপরে তুলে দেয়। এরপর ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হতেই আরও একটি গোল করে নিজের বিশ্বকাপের মোট গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১০-এ নিয়ে যান তিনি।
এতে চলতি বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির চেয়ে দুই গোল এগিয়ে গেলেন এমবাপ্পে। যদিও রোববার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবেন মেসি, যেখানে এই ব্যবধান কমানোর সুযোগ থাকবে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে।
তবে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় অর্জন এসেছে বিশ্বকাপের সর্বকালের গোলদাতার তালিকায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনটি বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে তিনি পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে এবং নিজের নাম লিখিয়েছেন নতুন এক বিশ্বরেকর্ডের মালিক হিসেবে।
মাত্র ২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পের সামনে এখনও অন্তত আরও একটি বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ২০৩০ বিশ্বকাপেও তার এই রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমান ফর্ম ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমবাপ্পের এই গোলরেকর্ড দীর্ঘ সময় অক্ষুণ্ন থাকতে পারে।


