দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। তাঁর দাবি, জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে প্রত্যাশিত গুণগত পরিবর্তন না হওয়ায় সৎ, আদর্শবান ও ত্যাগী মানুষ রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে অর্থের প্রভাব, দুর্নীতি এবং নানা ধরনের অপরাধী চক্রের দৌরাত্ম্যে রাজনীতি এখন সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা হারিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর কলেজ এভিনিউয়ে দলীয় কার্যালয়ে বরিশাল জেলা ও মহানগর লেবার পার্টি আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. ইরান বলেন, বর্তমানে প্রতারক, লুটেরা, অর্থপাচারকারী, মানবপাচারকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং কালোবাজারি সিন্ডিকেটের প্রভাব সর্বত্র বিস্তৃত। তাঁর অভিযোগ, যেকোনো মূল্যে অর্থ-সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতায় রাজনীতি এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমলা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও পুঁজিপতিদের অনুপ্রবেশে রাজনীতির চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিরাও জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি পরিচালিত সরকারের আমলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সুশাসন, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং অর্থের প্রভাব নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. ইরান বলেন, “আমরা খাই-খাই রাজনীতি ও লুটপাটের গণতন্ত্র চাই না। অর্থ, অস্ত্র, কালোটাকা, পেশিশক্তি, হোন্ডা ও গুন্ডানির্ভর রাজনীতির অবসান ঘটাতেই ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত ফসল ৩৬ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান।”
তিনি আরও বলেন, জনগণ একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা করেছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাইয়ের চেতনা ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে লেবার পার্টি রাজপথে সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
সভায় বরিশাল মহানগর লেবার পার্টির সভাপতি মো. সোহেল মাহমুদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জোহরা খাতুন জুঁই এবং বাংলাদেশ যুব মিশনের আহ্বায়ক সালমান খান বাদশা। এছাড়া বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার লেবার পার্টির নেতারাও বক্তব্য রাখেন।


