নারীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানীতে চালু হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) গোলাপি রঙের বিশেষ ‘পিংক বাস’ সার্ভিস। তবে চালু হওয়ার পরদিনই এই বাসের এক নারী চালকের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় এসি বাস ছাড়া গাড়ি চালানো কঠিন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওই নারী চালককে পিংক বাস চালানোর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওতে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গণমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ওই নারী চালক বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে রাস্তায় এসি বাস ছাড়া চালানো সম্ভব নয়। অটোগাড়ি হলে ভালো হয়।’
পিংক বাস চালানোর অভিজ্ঞতা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিজ্ঞতা কী, আমরা তো পেশাদার চালক। গাড়ি চালাতে পারি, এই তো।’
তার এই সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর তীব্র গরম, যানজট ও দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকার বাস্তবতায় গণপরিবহনের চালকদের কর্মপরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিলা বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করা হয়। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই বিশেষ সেবা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিআরটিসি।
প্রাথমিকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ১০টি পিংক বাস চলাচল করবে। এর পাশাপাশি বগুড়ায় দুটি ও চট্টগ্রামে দুটি বাসসহ ঢাকার বাইরে আরও চারটি বাস এই সেবার আওতায় থাকবে।
বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যুক্ত করে পিংক বাসের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।
মতিঝিল বাস ডিপোর অধীনে
নতুন বাজার (কোকাকোলা)-মতিঝিল এবং তালতলা-মতিঝিল রুটে বাস চলবে।
কোকাকোলা, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।
অন্যদিকে তালতলা-মতিঝিল রুটে তালতলা, খিলগাঁও রেলগেট, বাসাবো, বৌদ্ধমন্দির, মুগদা, কমলাপুর রেলস্টেশন, আরামবাগ, শাপলা চত্বর ও সচিবালয় হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে।
ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার-জিপিও রুটে চলবে একটি বাস। এটি ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, বাঁশের পুল, কাজলা, যাত্রাবাড়ী, জনপথ মোড়, গুলিস্তান, পল্টন, সচিবালয় ও মৎস্য ভবন হয়ে জিপিও পর্যন্ত যাবে।
মিরপুর-১০-মতিঝিল রুটে বাস চলবে। রুটটি মিরপুর-১০, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত বিস্তৃত।
মিরপুর-মতিঝিল এবং মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে বাস চলবে। মিরপুর-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১০, মিরপুর-১, টেকনিক্যাল, শ্যামলী, ফার্মগেট, শাহবাগ ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।
আর মিরপুর-১২-মতিঝিল রুটে মিরপুর-১২, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে চলাচল করবে।
মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলবে বিশেষ বাস। এ পথে মোহাম্মদপুর, শংকর, ধানমণ্ডি-১৫, সিটি কলেজ, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ ও পল্টন হয়ে মতিঝিলে যাবে বাস।
আব্দুল্লাহপুর-মতিঝিল রুটে চলবে বাস। এতে আব্দুল্লাহপুর, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, কুড়িল, বনানী, মহাখালী, ফার্মগেট, শাহবাগ, প্রেস ক্লাব ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাতায়াত করা যাবে।
গাজীপুর-বিমানবন্দর রুটেও বিশেষ বাস চলবে। রুটটি গাজীপুর, শিববাড়ী, গাজীপুর চৌরাস্তা, মালেকের বাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা, কলেজগেট, স্টেশন রোড, আব্দুল্লাহপুর ও আশপুর হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত যাবে।
রাজধানীর বাইরে বগুড়ায় শেরপুর-মাটিডালি রুটে দুটি এবং চট্টগ্রামে কালুরঘাট-পতেঙ্গা রুটে দুটি পিংক বাস চালু করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাসগুলো কালুরঘাট, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড় ও লালখান বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দিয়ে চলাচল করবে।


