কলকাতা-দিল্লিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, থাকছেন বিজেপি-কংগ্রেসের নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ভারতে একাধিক কর্মসূচি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কলকাতা ও নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে কয়েক দিনব্যাপী এসব আয়োজনে বিজেপি ও কংগ্রেসের নেতাসহ বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলের ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ৭৯ বছর পেরিয়ে ৮০ বছরে পা দেবেন। তাঁকে ঘিরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা, দীর্ঘায়ু কামনা এবং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে ছয় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতার সল্টলেকে ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’ শীর্ষক একটি টেলিছবির প্রদর্শনের আয়োজন রয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নির্মাণে ২০২৪ সালের কথিত জুলাই-আগস্টের জঙ্গি আন্দোলনে বাংলাদেশের পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ছবিতে উপস্থাপিত বক্তব্যকে নির্মাতাদের দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জন্মদিনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা, গান, গল্পপাঠ এবং নৃত্য পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতা ও দিল্লির পাশাপাশি ভারতের আরও কয়েকটি বড় শহরেও কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে পৃথক কর্মসূচি নেওয়ার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দলের অনুষ্ঠান মূলত অনলাইনকেন্দ্রিক হবে। সেখানে শেখ হাসিনা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর কলকাতায় নাগরিক সমাজের আয়োজন
২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিনে কলকাতার নাগরিক সমাজের উদ্যোগে পৃথক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ভারতের সাবেক সাংসদ ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক বিধায়ক এবং কংগ্রেস নেতা দেবপ্রসাদ রায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের সহায়তা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রমে দেবপ্রসাদ রায় ভূমিকা রেখেছিলেন।
দিল্লিতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি
২৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ধ্রুপদী নৃত্য ও সংগীতভিত্তিক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে পদ্মবিভূষণপ্রাপ্ত নৃত্যশিল্পী ও পরিচালক উমা শর্মার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এর পরদিন, ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে দ্য বেঙ্গল অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে আরও একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ভারতের সাবেক লোকসভার স্পিকার ও কংগ্রেস নেত্রী মীরা কুমারের উপস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।
কলকাতায় আয়োজিত আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে বম্বে হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায় এবং নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্করের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এদিকে কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও বক্তব্য দেন। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। তাঁরা শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কলকাতা ও দিল্লিতে ধারাবাহিক এই আয়োজন ভারতের মাটিতে তাঁর সমর্থকদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তৎপরতার একটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশ হিসেবে সামনে এসেছে।


