বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেন আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আলী হোসেন ছিলেন মুজিব বাহিনীর অন্যতম প্রধান সংগঠক। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি স্বাধীনতার সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা এবং যুদ্ধকালীন বিভিন্ন কৌশলগত কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগী অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
স্বাধীনতার পরও তিনি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের প্রশ্নে তিনি সবসময় সরব ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।
আলী হোসেনের মৃত্যুতে দেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তাঁর সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁরা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও অবদান নতুন প্রজন্মের জন্য ছিল অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা মহল গভীর শোক প্রকাশ করেছে। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হোসেনের মৃত্যুতে জাতি হারালো স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিককে, যার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর কর্ম, সংগ্রাম ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দীর্ঘদিন অনুপ্রাণিত করবে।


